জাতীয় নির্বাচনের আগে ঐক্য ও শৃঙ্খলার ডাক
বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, “দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপোষ করা হবে না।” বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা অডিটরিয়ামে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। এর আগে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে সাধারণত নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি ও আন্দোলন-কেন্দ্রিক আহ্বান প্রাধান্য পেত। কিন্তু বাবরের বক্তব্যে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপোষ না করা বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে দুটি ইঙ্গিত স্পষ্ট—
1. বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ‘অপশক্তির সঙ্গে আঁতাত’ করার অভিযোগের জবাব দিতে চাইছে।
2. নেতাকর্মীদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা উসকে দিয়ে সংগঠনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করতে চাইছে।
বাবর নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, “কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে আপনাদের তা মানতে হবে। নিজেদের মধ্যে সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি এখন বড় ধরনের সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দলীয় বিভক্তি, নেতৃত্ব সংকট ও নেতাকর্মীদের মামলা-হামলার কারণে ঐক্যের প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাবর বলেন, তারেক রহমান দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী করেছেন। এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, বিএনপি নেতারা প্রবাসে থাকা তারেক রহমানকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। তবে সমালোচকদের মতে, প্রবাসে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি কতটা কার্যকরভাবে আন্দোলন পরিচালনা করতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বাবর আবেগময় বক্তব্য দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডসহ মামলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্মীদের দোয়া ও ভালোবাসায় তিনি মুক্ত হতে পেরেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি নেতাকর্মীদের আবেগতাড়িত করার চেষ্টা করছেন, যাতে আন্দোলনে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ে।
বাবরের বক্তব্যে পরিষ্কার যে, বিএনপি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে চাইছে। মোহনগঞ্জে রাতের সভা ও পরদিন পথসভা প্রমাণ করছে, মাঠে থাকার কৌশলই এখন প্রধান।
লুৎফুজ্জামান বাবরের বক্তব্য শুধু স্থানীয় রাজনীতির খবর নয়; বরং এটি বিএনপির সামগ্রিক কৌশলের প্রতিফলন। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপোষহীনতার ঘোষণা, ঐক্যের ডাক এবং তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে সংগঠনকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা—সবকিছু মিলিয়ে এটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের জন্য এক ধরনের মোবিলাইজেশন স্ট্র্যাটেজি।
—