বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা সবসময়ই বিরল একটি দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে সভাপতি পদে তিন মেয়াদ টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব বললেই চলে। কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করলেন জামালপুর জেলা বিএনপির অভিজ্ঞ নেতা ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। সদ্য সমাপ্ত কাউন্সিলে টানা তৃতীয়বার সভাপতি নির্বাচিত হয়ে তিনি শুধু একটি পদ ধরে রাখেননি, বরং “নেতৃত্বে আস্থার হ্যাটট্রিক” গড়ে তুলেছেন।
—
🔹 রাজনৈতিক যাত্রা ও প্রথম মেয়াদ
শামীমের রাজনৈতিক পথচলা শুরু ছাত্রজীবন থেকেই। বিএনপির দুর্দিনে তিনি জেলা পর্যায়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ২০০১ সালের পরবর্তী সময়টিতে আওয়ামী লীগ সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে প্রতিটি কর্মসূচিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে জেলা বিএনপির ভরসার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
প্রথমবার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সংগঠনকে পুনর্গঠনে মনোযোগ দেন এবং দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের আবার রাজপথে ফিরিয়ে আনেন।
—
🔹 দ্বিতীয় মেয়াদ: আন্দোলনের মাঠে নেতৃত্ব
দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর নেতৃত্ব আরও দৃশ্যমান হয়। বিশেষ করে ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি জামালপুর জেলাকে বিএনপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেও তিনি নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয় রাখেন।
তাঁর নেতৃত্বে জেলার প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠিত হয়, যা পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে দৃঢ় করে তোলে।
—
🔹 তৃতীয় মেয়াদ: আস্থার হ্যাটট্রিক
২০২৫ সালের সম্মেলনে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়ে শামীম করলেন ইতিহাস। জেলা বিএনপির রাজনীতিতে এমন নেতৃত্ব আগে দেখা যায়নি। টানা তিন মেয়াদে সভাপতি হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে সংগঠনের ভেতরে তাঁর অবস্থান অটল ও গ্রহণযোগ্য।
নেতাকর্মীদের ভাষায়—“শামীম ভাই শুধু সভাপতি নন, তিনি জামালপুর জেলা বিএনপির অভিভাবক।”
—
🔹 জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ অবস্থা
জামালপুর জেলা বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক গ্রুপ সক্রিয়। কিন্তু শামীমের নেতৃত্বে সেই বিভাজন অনেকাংশেই কমে এসেছে। তাঁর সমন্বয় ক্ষমতা ও কৌশলী রাজনীতি দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি যদি আগামী জাতীয় নির্বাচনে বড় কোনো ভূমিকা রাখতে চায়, তবে জেলা পর্যায়ের এমন নেতৃত্বই হবে সংগঠনের মূল শক্তি।
—
তবে হ্যাটট্রিক অর্জন করলেও সামনে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন: কেন্দ্রের রাজনৈতিক কৌশল জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া।
আন্দোলন সক্রিয় রাখা: আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চাপের মধ্যেও নেতাকর্মীদের মাঠে রাখা।
নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করা: তরুণ ভোটার ও যুবসমাজকে বিএনপির দিকে আকৃষ্ট করা।
—
টানা তিনবার জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এটি তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য যেমন, তেমনি জামালপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির প্রতিফলনও বটে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—এই আস্থার হ্যাটট্রিক যদি তিনি আন্দোলন ও নির্বাচনী কৌশলে রূপান্তর করতে পারেন, তবে জামালপুর জেলা বিএনপি আগামী দিনে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
—