• শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আওনা ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৬ জামালপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান: অস্ত্রভাণ্ডারসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার ভিপি নুরের ওপর হামলা: সীমাহীন লোভই সর্বনাশের মূল — ডাঃ পিনাকী ভট্টাচার্য কাকরাইল সংঘর্ষ : রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের নতুন অগ্নিস্ফুলিঙ্গগুরুতর আহত নুরুল হক নুর পরীমনির নতুন প্রেমের গুঞ্জন: প্রেমিক কে? ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে লতিফ সিদ্দিকী আটক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে ১২টি জে-১০সি যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস আজ শরীয়তপুরে সাড়ে ২৬ হাজার নলকূপে আর্সেনিকের ভয়াবহ মাত্রা

থানার ব্যারাকে নারী পুলিশ সদস্যকে ধর্ষণের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫

মামলা নিতে অস্বীকৃতি ওসির, ধামাচাপার চেষ্টা অভিযোগ ভুক্তভোগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ব্যারাকে এক নারী পুলিশ সদস্যকে দিনের পর দিন ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে সহকর্মী কনস্টেবল সাফিউর রহমানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও থানার ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং উল্টো ধামাচাপার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় পুরো পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে।


ভুক্তভোগীর অভিযোগ

ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সদস্য জানান—

> “গত রমজানের পর ডিউটি না থাকায় রাতে ব্যারাকে আমি একা ছিলাম। হঠাৎ কনস্টেবল সাফিউর আমার রুমে ঢুকে আমাকে জাপটে ধরে এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। সেই দৃশ্য ভিডিও করে রাখে এবং পরে সেটি ফাঁস করার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন আমাকে নির্যাতন করেছে।”

তিনি আরও বলেন—

> “বিয়ের প্রলোভন দেখাতো, কিন্তু আমি রাজি না হলে মারধর করত। আমার কাছে তার নির্যাতনের ছবি ও প্রমাণ রয়েছে।”

ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৫ আগস্ট রাত আড়াইটার দিকে সাফিউর আবারও তার রুমে ঢুকে ধর্ষণ করে। পরদিন তিনি বিষয়টি থানার সেকেন্ড অফিসারকে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর উল্টো তাকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়।

মামলা নিতে অস্বীকৃতি ও ঘুষের প্রস্তাব

নারী পুলিশ সদস্য আরও জানান—

> “১৭ আগস্ট আমি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে ওসি মামলা নিতে রাজি হননি। তিনি বলেন সিনিয়র অফিসার অনুমতি না দিলে মামলা নেয়া যাবে না। এমনকি থানার মুন্সীর মাধ্যমে আমাকে টাকা নিয়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়।”

পরবর্তীতে অভিযোগ জানানোর পর ভুক্তভোগীর রুম থেকে জামাকাপড় সরিয়ে আলামত নষ্ট করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এসপি অফিসে অভিযোগ দাখিল

অবশেষে তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সেখানে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল ও মারধরের প্রমাণ উপস্থাপন করেন।

অভিযুক্ত সাফিউর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন—

> “আমি ওই নারীকে চিনি না।”

কিন্তু একই থানায় কর্মরত অবস্থায় একে অপরকে না চেনার দাবি পুলিশের কর্মকর্তাদের মধ্যেও প্রশ্ন তুলেছে। এ সময় সাফিউর আরেক নারী কনস্টেবল স্বর্ণাকে হাজির করে দাবি করেন তাদের এক বছর আগে বিয়ে হয়েছে। কিন্তু পুলিশের নিয়ম অনুযায়ী বিয়ে করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়, যা তারা দেখাতে ব্যর্থ হন।

অভিযুক্ত ও পুলিশের বক্তব্য

অভিযুক্ত কনস্টেবল সাফিউর রহমান সাংবাদিকদের ফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন বলেন—

> “আমার কাছে ওই ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সদস্য কোনো অভিযোগ করেননি। বিষয়টি এসপি দেখছেন।”

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন—

আমাদের পুলিশ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। ব্যারাকে একা থাকা সম্ভব নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এটি প্রেমঘটিত নাকি কাউকে ফাঁসানো হচ্ছে সেটিও দেখা হচ্ছে। দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার ভুক্তভোগীর অভিযোগে স্পষ্ট হয়েছে

থানার ব্যারাকে দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মী কনস্টেবলের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

অভিযোগ দেওয়ার পর থানার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মামলা না নিয়ে উল্টো ধামাচাপার চেষ্টা করেছেন।

প্রমাণাদি থাকা সত্ত্বেও বিষয়টিকে প্রেমঘটিত বলে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।


এই বিভাগের আরোও